সেচ্চাশ্রমে রাস্তা নির্মাণ করা ছাতকের সুমন একদিন দৃষ্টান্ত ও ইতিহাস হয়ে থাকবে

0
80
প্রতিবেদক উজ্জীবক সুজন তালুকদারের সাথে সুমন আহমদ

▪︎সুজন তালুকদার , ছাতক প্রতিনিধি :   সুমন সুনামগঞ্জের  ছাতক উপজেলার আফজালাবাদ ইউনিয়নের বাগইন গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৌরশ আলীর সন্তান।
দেশের জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সেবা করার ওয়াদা করে ভোটের পর সব ভুলে যান,আবার ভোটের আগে জনগণের বন্ধু হবার অভিনয় করেন,এভাবেই চক্রাকারে তা চলতে থাকে।কিন্তু সুমন ভোটের জন্য নয়, নিজের দায়বদ্ধতা থেকে বিনা পারিশ্রমিকে রাস্তা নির্মাণ করে চলেছেন ছাতক ও বিশ্বনাথ উপজেলার পথে প্রান্তরে ।

গত ৭ বছরে সিলেটের বিশ্বনাথ ও সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ৪ ইউনিয়নের বহু রাস্তাঘাট সংস্কার করেছেন সুমন একাই। বিনিময়ে কারো কাছ থেকে এককাপ চাও খায়নি সে। সড়কের দুপাশের মাটি দেবে গেলে কিংবা ধসে গেলে সেখানে মাটি ভরাটের কাজ করেন সুমন। আবার যে সড়ক খানাখন্দে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে সেটিকে করে তোলেন চলাচলের যোগ্য । গ্রামের ভেতরের নালায় বাশঁ দিয়ে তৈরি করেছেন কালভার্ট। আবার ব্রিজের এপ্রোচ সড়কও তৈরি করে দিয়েছেন। এই হচ্ছেন ছাতকের সুমন। এসব কাজের জন্য এলাকাবাসী তাকে নিয়ে গর্ব করেন।

এলাকাবাসী জানান, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাগইন গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৌরশ আলীর ৩ ছেলের মধ্যে সুমন দ্বিতীয়। সুমনের একমাত্র বোনটি কলেজে পড়াশুনা করলেও অন্য ভাইয়েরা কেউ প্রাইমারির গন্ডি পেরোতে পারেনি। সম্প্রতি সরেজমিনে সুমনের কাজ দেখতে গেলে কথা হয় সুমনের সঙ্গে। সুমন জানান, সে ৪র্থ শ্রেণির পর আর স্কুলে যাননি।একদিন স্কুলে যাওয়ার সময়ই দেখতে পান রাস্তাঘাটের ভঙ্গুর দশা। আর সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নেন মানুষের কষ্ট লাঘবে সড়কের দুরাবস্থা দূর করতে নিজেই কোদাল আর টুকরি নিয়ে নেমে পড়বেন কাজে। সেই থেকে শুরু

প্রতিবেদক উজ্জীবক সুজন তালুকদারের সাথে আলাপকালে সুমন জানান, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে এবং আমি এদেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি আমার কর্তব্য পালন করছি মাত্র। সুমন আরো বলেন রাস্তার কাজ করবো যতো দিন বেঁচে আছি, আমি চাই সাধারণ মানুষ ,ছাত্র ছাত্রী, ও মসজিদের মুসল্লিরা যাতে চলাফেরা করতে পারেন ঠিক মতো সেইভাবে রাস্তার কাজ  করব ।

সুমন আরো জানান, যে সড়কটি একেবারে চলাচলের অযোগ্য সেই সড়কে হাত দেন প্রথমে। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সিঙ্গেরকাচ ইউনিয়ন ও ছাতকের ছৈলা আফজলাবাদ, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাও ও দোলারবাজার ইউনিয়নের কমপক্ষে ৫০ কিলোমিটার সড়ক মেরামত করেছেন।এছাড়া তৈরি করে দিয়েছেন অনেক বাঁশের সাঁকোও।

এ কাজে লাগার পর লোকজন নিশ্চয় পাগল বলত? এ প্রশ্নের জবাবে সুমন বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার কাজ দেখে আমাকে উদ্দেশ্য করে পাগল বলে গালাগাল করত। কিন্তু আমি তাতে কান দেইনি। তারা না বুঝে এসব বলত।’ সুমনের দেশসেবা অনটনের সংসারে কেউই ভাল চোখে নেয়নি। পরিবার থেকে মাঝে মধ্যে বের করে দিলেও টুকরি-কোদাল নিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করেননি সুমন। পেটে ভাত না থাকলেও কাজ চালিয়ে যান তিনি।

গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাও ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের প্রবাসী আব্দুল ওয়াদুদ তুহিন বলেন, ‘দেশে আসার পর দেখি গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়া আন্ত:ইউনিয়ন সড়কে সারাদিন ধরে কাজ করছে একটি ছেলে। খবর নিয়ে জানলাম এই ছেলেটি বিনা পারিশ্রমিকে সারাদিন কাজ করে। অসচ্ছল পরিবারের হয়েও দেশের প্রতি তার মমতাবোধ সত্যিই গর্ব করার মতো।’ সুমন প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ শুরু করে। বিনিময়ে কারো কাছ থেকে কোনো সুবিধা নেয়না। স্থানীয়রা বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা করতে চাইলেও নেয়নি সে।

চেয়ারম্যান মেম্বাররা যে  রাস্তার কাজ করেন সরকারী টাকা দিয়ে আমি কাজ করি নিজের শ্রমদিয়ে, সেবক হয়ে দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চাই আমার শ্রম দিয়ে,। আমার পুঁজি হচ্ছে শ্রম বলে জানান সুমন ।

সে কখনও কিছু পাওয়ার আশা করে না , সে বলে আমার স্বপ্ন রাস্তা নির্মাণ করা  । পিতার  মুক্তিযোদ্ধা ভাতা সম্পর্কে  জানতে চাইলে প্রতিবেদককে সুমন  জানান ,  প্রথম দিকে  বাবা ভাতা পাননি ,  যখন থেকে  স্বেচ্ছায় কাজে নেমেছি এবং আমাকে নিয়ে সাংবাদিক ভাইয়েরা যখন  লেখালেখি শুরু করেছেন তখন থেকে ভাঁতা পাচ্ছেন।

ফ্রান্স বাংলা- ৩০/০৮/২০২০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here