যা লেখা ছিলো পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যানের গায়ে

0
164
পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যান বসানোর মধ্যে দিয়ে দৃশ্য মান হলো ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের পুরো পদ্মা সেতু।

ফ্রান্স বাংলা ডেস্ক : বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নির্মাণাধীন অবকাঠামো পদ্মা সেতুর সর্বশেষ স্প্যানটি বসানো হয়েছে। ৪১ স্প্যানে দৃশ্যমান হলো পুরো পদ্মা সেতু। বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ সেতুর ১২ ও ১৩ নম্বর খুঁটির ওপর স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হয়। দুপুর ১২টায় সেতুর স্প্যানটি বসানোর কাজ শেষ হয়। এর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হলো ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের পুরো পদ্মা সেতু।

বিজয়ের মাসের শুরুই দিকেই দৃশ্যমান হলো ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের পুরো পদ্মা সেতু। আর এ উচ্ছাস বইছে প্রতিটি বাঙালীর মনে।

পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যানটির গায়ে নিজেদের ভাষায় কিছু বার্তা লিখেছে প্রকল্পটির জন্য কাজ করা চীনা কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকরা। পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যান বসানোর মতই যে লেখার প্রতি কৌতুহল বাংলা ভাষাভাষী মানুষের অনেকেরই।

স্প্যান ও স্প্যানবাহী ক্রেনের গায়ে চীনা ভাষায় লেখা ছিলো পদ্মা সেতু নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য একটি শুভেচ্ছা বার্তা।

চীনা ভাষা থেকে অনুবাদ করলে যার অর্থ দাঁড়ায় অতিযত্ন সহকারে নানা সমস্যা মোকাবিলা করে শীঘ্রই আমরা এ সেতু বাস্তবে রূপ দেব। আমরা বাংলাদেশের জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।‘

উল্লেখ, ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতুতে বসে প্রথম স্প্যানটি। এরপর ২০১৮ সালে বসানো হয় চারটি স্প্যান, ২০১৯ সালে ১৪টি, ২০২০ সালে বসানো হয় ২২টি স্প্যান। প্রথম স্প্যান থেকে ধারাবাহিকভাবে বসিয়ে শেষ পর্যন্ত আসতে সময় লেগেছে ৩৮ মাস ১০ দিন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। এরপর প্রথম স্প্যান বসানো হয়েছিল ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। এরপর নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে ধাপে ধাপে স্প্যান বসতে থাকে। সেতুর কাজে নিয়োজিত দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী, শ্রমিকরাও শেষ স্প্যান বসিয়ে খুশি। চলতি বছর করোনা পরিস্থিতি ও বন্যার কারণে চার মাস স্প্যান বসানো হয়নি। কিন্তু, গেল দুই মাসে আটটি স্প্যান বসানো হয় এবং এ মাসে বসে দুইটি স্প্যান। পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রয়োজন হবে দুই হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব। এ ছাড়া, দুই হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে বসানো স্প্যানগুলোতে এসব স্ল্যাব বসানো হচ্ছে।

ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে পদ্মা সেতুর কাঠামো। সেতুর উপরের অংশে যানবাহন ও নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here