মানব পাচারকারী চক্র বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে ছেড়ে দিত শ্রীলঙ্কার জঙ্গলে

0
397
মানব পাচারকারী চক্র বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে ছেড়ে দিত শ্রীলঙ্কার জঙ্গলে ( প্রতীকী ছবি)

অনলাইন ডেস্ক:  আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের ৪ বাংলাদেশি সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। এই চক্রটি চাকরি ভিসায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের ঢাকা মেট্রো পশ্চিমের একটি দল তাদেরকে গ্রেফতার করে।
বৃহস্পতিবার সিআইডির সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- হাবিবুর রহমান, মামুনুর রশিদ, জামাল হোসেন ও নাহিদুল ইসলাম পলাশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৮টি পাসপোর্ট, বিভিন্ন দূতাবাস, ব্যাংক, এজেন্সির ১৯টি সিলমোহর ও কম্বোডিয়ার ১০টি জাল ভিসা জব্দ করা হয়েছে।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিদেশে যেতে ইচ্ছুকদের ইউরোপের বিভিন্ন দেশে (মাল্টা, চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি, মিশর মালদ্বীপ, কম্বোডিয়া) পাঠানোর কথা বলে টাকা নেয়। পরে তারা অনুমোদনহীন এজেন্সির মাধ্যমে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অনুমোদন ছাড়া প্রথমে ভিজিট ভিসায় ভারতে পাঠাতো।

ভারত নেওয়ার পর ভুয়া ভিসা দিয়ে বিদেশ গমনেচ্ছুদের পরিবারের কাছ থেকে নানাভাবে টাকা হাতিয়ে নিতো। টাকা না দিলে বিভিন্ন জায়গায় আটকে রেখে নির্যাতন করে টাকা আদায় শেষে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হতো। এই সংঘবদ্ধ চক্রে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের দালাল চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রথমে ভুক্তভোগীদের বিআরটিসি বাসে করে বেনাপোল নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাদের বাসে করে নেওয়া হয় কলকাতায়। পরে ট্রেনে করে হায়দ্রাবাদে নেওয়া হয়। এরপর ট্রলারে করে নেওয়া হয় শ্রীলঙ্কায়। সেখানে জঙ্গলে ফেলে নির্যাতন করে টাকা আদায় করা হয়। পরে ওই ভুক্তভোগীরা সেখান থেকে পালিয়ে  শ্রীলঙ্কার স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। দেশ থেকে ভুক্তভোগীদের পরিবার থেকে টাকা পাঠালে সেই টাকায় দেশে ফিরে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শরণাপন্ন হয়।

কিছুদিন আগে ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে পাঠানোর কথা বলে আফ্রিকার ঘানায় পাঠিয়ে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা মুক্তিপন আদায় করে ।

র‌্যাব-৩ জানায়, রওশন আক্তার রিনা নামে এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই অভিযান চালানো হয়। ভুক্তভোগী জানান, পাচারকারী চক্রটি ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর কথা বলে নগদ ৫ লাখ টাকা নিয়ে তার মেয়ের জামাই সালাহউদ্দিনকে ট্যুরিস্ট (পর্যটন) ভিসায় দুবাই পাঠায়।

এরপর ঘানা হয়ে ফ্রান্সে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেয়। পরে ভারত থেকে সংগ্রহ করা জাল পর্যটন ভিসায় তাকে ঘানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়।

ঘানায় পৌঁছার পর মানব  পাচারকারী চক্র তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ বাবদ ২০ লাখ টাকা দাবি করে। ধাপে ধাপে ১১ লাখ টাকা পরিশোধ করার পরও ভিকটিমকে মুক্তি দেয়নি।

সৌজন্যে- ইত্তেফাক/ ফ্রান্স বাংলা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here