বিপর্যয়ের নতুন রেকর্ড: ছাগলের চামড়া ২ টাকা, গরুর ১৫০ !

0
155
ফেরি করে সংগ্রহ করা কোরবানির পশুর চামড়ার বিক্রির জন্য জমা করে রাখা হয়েছে ।

গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে পশুর চামড়ার দামে ব্যাপক ধস নেমেছে। অস্বাভাবিক ভাবে প্রতি বছর কমছে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম !

রাজধানীর ওয়ারি এলাকার বাসিন্দা রফিক ইসলাম। কোরবানির গরু কিনেছেন ৯০ হাজার টাকা দিয়ে। কোরবানির পর তার গরুর চামড়া কেনার জন্য কয়েকজন মৌসুমী ব্যবসায়ী এসে দাম বলেন ২০০ টাকা। রফিক সাহেব কিছুটা মেজাজ খারাপ করেই তাদের বিদায় দেন। ভেবেছিলেন কিছুক্ষণ পরই হয়তো অন্য লোক আসবে, কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করা যাবে চামড়া। কিন্তু তারপর যারা এলো তারা দাম বললো আরও কম। শেষমেশ রফিক সাহেব হতাশ হয়ে চামড়াটা তার বাড়ির দারোয়ান করিমকে দিয়ে দেন। সারাদিন অপেক্ষার পর করিম সেটা ১৫০ টাকায় বিক্রি করতে সমর্থ হয়। এই তো গেল গরুর চামড়ার কথা।

দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশুর চামড়ার নায্য মূল্যে না পেয়ে এভাবে লাখ লাখ টাকার চামড়া লোকজন মাটিতে পুঁতে ফেলছে

ছাগলের চামড়ার দামের আরও বেহাল দশা। রাজধানী ঘুরে দেখা গেছে ২ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে ছাগলের চামড়া। এ যেন চামড়ার দামে বিপর্যয়ের নতুন রেকর্ড।

এবার আগে থেকেই চামড়ার দাম নির্ধারণ ও রপ্তানির ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। এত প্রস্তুতি আর পরিকল্পনার পরও চামড়ার দামে বিপর্যয় ঠেকানো গেল না। রাজধানীতে গরুর চামড়া আকারভেদে ১৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছাগলের চামড়ার দাম ২-১০ টাকা। অথচ গতবারের চেয়েও কোরবানির পশুর চামড়ার দাম এবার ২০ থেকে ২৯ শতাংশ কমিয়ে ধরা হয়েছে।

 

এবার ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল সরকার, যা গত বছর ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকার মধ্যে ছিল। ছাগলের চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতি বর্গফুট ১৩ টাকা। সাধারণত ৭০ হাজার টাকা থেকে ৯০ হাজার টাকা মূল্যের যেই গরুগুলো জবাই করা হয়, তার চামড়ার আয়তন ২০ থেকে ২৫ ফুট হয়ে থাকে। আর এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকার গরুগুলোর চামড়া হয় ২৫ থেকে ৩০ বর্গফুটের মধ্যে। সবচেয়ে বড় গরুগুলোর চামড়া ৩০ বর্গফুটের চেয়ে কিছুটা বেশি হয়ে থাকে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সে হিসেবে চামড়ার যে দাম ওঠার কথা তার ধারে কাছেও পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। সারা দেশেই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক কমে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশুর চামড়া।

 

বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরবানির পশুর চামড়ার সংগ্রহ করে অবশেষে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে চামড়ার স্তূপের পাশে হতাশ হয়ে বসে আছেন কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী

চামড়ার কম দাম প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট সভাপতি আফতাব খান বলেন, কাঁচা চামড়া যে দামে বিক্রি হচ্ছে তা ঠিকই আছে। কারণ প্রতি বর্গফুট চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে ৮ টাকা খরচ হয়। তা ছাড়া আড়তদারেরা নগদ অর্থের সংকটে আছেন। বেশির ভাগ ট্যানারির মালিক আড়তদারদের বকেয়া পরিশোধ করেননি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চামড়া প্রক্রিয়াজাতে লবণের খরচ আছে। কাটিংয়েও বাদ যাবে কিছু চামড়া। তা ছাড়া শেষ পর্যন্ত কী দাম পাওয়া যাবে, তা নিয়ে আশঙ্কায় আছেন অনেক ব্যবসায়ী।

 

তাছাড়া ২০১৭ সালে হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তরের পর থেকেই ট্যানারির মালিকেরা আর্থিক সংকটে আছেন। সে জন্য আড়তদারদের পাওনা সময়মতো পরিশোধ করতে পারছেন না অনেকে। এজন্যেও চামড়ার দাম কমতে কমতে সেটা তলানিতে চলে এসেছে।

তবে চামড়ার দামে বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় কারণ হলো সিন্ডিকেট। আমাদের দেশের সব খাতের মতো চামড়া খাতেও রয়েছে সিন্ডিকেটবাজদের দৌরাত্ম। যার ফলে প্রতি বছরই সর্বনিম্ন চামড়ার দামে নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে।

এদিকে চামড়ার  ন্যায্য মূল্য না পেয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশুর চামরা লোকজন মাঠিতে পুঁতে ফেলছে। এতে সিন্ডিকেটের কারণে নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ টাকার চামড়া । আর গরীব ও অসহায় মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে । সাধারণ কোরবানির এসব চামড়া বিক্রির টাকা দেশের গরীব ও অসহায় মানুষ পেয়ে থাকেন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here