বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে : সংসদে এমপি হারুন

0
149
মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না নিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভঙ্গুরতার প্রমাণ দিচ্ছেন বলে সংসদে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে জাতীয় সংসদে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা (কোভিড ১৯ আক্রান্ত হলে সরকারি কোন হাসপাতালে যাচ্ছেন না। তারা সিএমএইচে বা প্রাইভেট হাসপাতালে যাচ্ছেন। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যে একেবারেই ভঙ্গুর, একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে আজকে এটিই তার প্রমাণ।“

এমপি হারুন বলেন, “আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভারতমুখী হয়ে গেছে। গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে চার কোটি অধিক মানুষ চিকিৎসার জন্য ভারতে গেছেন। আজকে এটি বাস্তব সত্য। এই সত্য কথাগুলো বলার জন্য সংসদে এসেছি।“

নিজের নির্বাচনী এলাকায চাঁপাইনবাবগঞ্জের হাসপাতালে চিত্র তুলে ধরে হারুন বলেন, “চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল ২০১১ সালে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে, এখানে এখন পর্যন্ত কোনো জনবল নাই। ১০০ বেডের জনবল নিয়ে চলছে। সেখানে অক্সিজেনের সিস্টেমও নেই।

“দেশের তিনটি স্পেশালাইজড হাসপাতাল। সেখানে করোনার কোনো চিকিৎসা করা হচ্ছে না। আইসিইউ ব্যবহার করা হয়নি। এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা নাই।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তৈরি করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষার কিটের অনুমোদনে বিলম্বের কারণ জানতে চেয়েছে এই সাংসদ বলেন, এটির কি কারণ, ব্যাখ্যা নেই। এটি অনুমোদন দিতে কেন এত সময় লাগছে? এটির প্রয়োজন আছে কিংবা নাই?

“আজকে যদি আমরা এই স্বল্প মূল্যের কিট উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে পারতাম তাহলে সবাই উপকৃত হতাম। গণস্বাস্থ্যের মত একটি প্রতিষ্ঠান যদি এ ধরনের কিছু তৈরি করতে পারে তাহলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজে কি কাজ হচ্ছে?“

করোনাভাইরাসের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের উন্নয়ন ব্যয় হ্রাস করে মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় ব্যয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

বিএনপির এই এমপি বলেন, ‘এটি সমালোচনা আলোচনার বিষয় নয়। এই অবস্থা থেকে আমরা কীভাবে মোকাবিলা করবো সেজন্য আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিতে হবে। সরকারের উন্নয়ন ব্যয় হ্রাস করতে হবে। সরকারের উন্নয়ন ব্যয় হ্রাস করে আজকে মানুষের জীবন এবং জীবিকার দিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’

ফ্রান্স বাংলা/১৫/০৬/২০২০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here