তীব্র ঠান্ডা মধ্যে বসনিয়ার জঙ্গলে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বাংলাদেশি সহ কয়েক শ’ অভিবাসী

0
517
প্রচন্ড তুষারপাতের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন অভিবাসী প্রত্যাশী বাংলাদেশী সহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক ( অনলাইন ছবি)

▪︎ফ্রান্স বাংলা ডেস্ক: বাংলাদেশিসহ কয়েকশ’ অভিবাসন প্রত্যাশী তীব্র তুষারপাত ও প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে  চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে বসনিয়া সীমান্তে।

ইউরোপের ধনী দেশগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টায় থাকা এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য আর উত্তর আফ্রিকার শরণার্থীদের জন্য ২০১৮ সালের পর থেকে বসনিয়া হয়ে উঠেছে সীমান্ত পার হওয়ার ‘ট্রানজিট রুট’।

ইউরোপে গমন প্রত্যাশী অভিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে বসনিয়ার সীমান্তবর্তী শিবিরে আটকা পড়ে আছেন। কেউ কেউ দীর্ঘ এক বছর ধরে অপেক্ষা করছেন সীমান্তবর্তী ক্রোয়েশিয়া পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার।

একে তো মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই তার ওপর তীব্র ঠাণ্ডা। অস্থায়ী আশ্রয় শিবির যাও ছিল তাও গত মাসে আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে। এরপর থেকেই খোলা আকাশের নিচে ও অস্থায়ী পরিত্যক্ত ভবনে আশ্রয় হয়েছে তাদের।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের সীমান্ত পার হওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছে। আর জাতিগত দ্বন্দ্বে বিভক্ত দারিদ্র্যপীড়িত বসনিয়া সরকারের এই সঙ্কট সামাল দেওয়ার মত অবস্থা নেই। ফলে বহু মানুষের জন্য সেখানে আশ্রয়ের ব্যবস্থাও করা যায়নি।

আফগানিস্তান থেকে আসা ১৬ বছরের আলীর আশ্রয় হয়ে উঠেছে পরিত্যক্ত একটি বাস; বিহাকের শরণার্থী ক্যাম্প ছাড়ার পর গত ছয় মাস ধরে ওই বাসেই সে ঘুমায়।

রয়টার্সকে তিনি বলেন, “আমার অবস্থা আসলে ভালো না। এখানে আমাদের দেখার কেউ নেউ। এ জায়গা মোটেও নিরাপদ না।

“যারা সাহায্য করার নাম করে আমাদের এখানে আসে, তারা আমাদের জিনিসপত্র নিয়ে যায়, তারপর সেসব জিনিস বিহাকের শরণার্থী ক্যাম্পে, নয়ত অন্য কোথাও বিক্রি করে দেয়। এখানে আমাদের আর কিছুই নেই,… প্লিজ, আমাদের সাহায্য করুন।”

অন্য একজন বলেন, ‘অনেকেরই এখানে উষ্ণ কাপড় নেই। জুতা নেই। ঠাণ্ডায় আমরা যে কোনো সময় মারা যেতে পারি।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তা নাতাশা ওমারোভিক বলেন, ‘অনেক শরণার্থী তীব্র ঠাণ্ডার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। আবার অনেকে বসনিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। দৈনন্দিন চাহিদা ও প্রয়োজনীয় খাদ্যের কোনো নিশ্চয়তা নেই তাদের।

অভিবাসীদের সঙ্কট সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আবারও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা।

গত সপ্তাহেই ২৬ কিলোমিটার দূরে লিপা সামার ক্যাম্পে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হলে প্রায় ৯০০ শরণার্থী এই শীতের মধ্যে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই শরণার্থীদের অন্য কোথাও সরিয়ে নিতে বহু আগে থেকে আহ্বান জানিয়ে এলেও বসনিয়া কর্তৃপক্ষ এতদিন তাতে সাড়া দেয়নি। এখন তারা ওই শরণার্থীদের জন্য তাঁবুর ব্যবস্থা করছে।

গত রোববার সন্ধ্যায় বিহাকের একটি পরিত্যক্ত ভবনে আশ্রয় পাওয়া একদল শরণার্থীকে আগুন জ্বেলে রাতের জন্য রান্না করা কিছু খাবার খেতে দেখা যায়।

বাইরে তুষারপাত হচ্ছে, অথচ তাদের অনেকের পায়ে দেখা গেল কেবল প্লাস্টিকের স্লিপার। পরিত্যক্ত ওই ভবনের নোঙরা কংক্রিটের মেঝের ওপরই তাদের ঘুমাতে হয়।

শাহবাজ খান নামে আফগানিস্তানের এক নাগরিক বললেন, “জীবন এখানে বড়ই কঠিন।”

অভিবাসীদের সঙ্কট সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আবারও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা।

Online, France Bangla

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here