জীবন দিয়ে সৌদিতে নি’র্যাতনের প্রতিবাদ করলো সিলেটের আসমা

0
329
আসমার মৃতদেহ

গার্মেন্টস এর চাকুরি ছেড়ে দিয়ে টাকা রুজির আশায় সুদূর সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিল সিলেটের আসমা। কিন্তু সুদূর প্রবাসে গিয়েও তার সুখ হয়নি। সেখানে গিয়ে অমানবিক নি’র্যাতনের শিকার আসমা নিজেকে বাঁ’চাতে ভাগ্যে রবণ করে নিয়েছে প্রবাসের কারাবাস। প্রবাসের জে’লে আত্মহ’ত্যার চেষ্টা করে সে। শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরে আত্মহ’ত্যা করে পৃথিবী থেকে বিদায় নিল।সরাইলের কালিকচ্ছ ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের দেওয়ান আলীর কন্যা আসমা (১৯)। গোটা পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সিলেটে বসবাস করছে। বেড়ে উঠেছে অভাব অনটনের মধ্যে। জন্মের পর সুখ দেখেনি। পড়ালেখাও করতে পারেনি। মা-বাবাসহ পরিবারের সবার শান্তির জন্য সে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। প্রথমে গার্মেন্টে চাকরি ও পরে টাকার জন্য পাড়ি দেয় সৌদি আরবে।

সেখানে গিয়ে তাকে সইতে হয়েছে অমানবিক নি’র্যাতন। নিজেকে বাঁ’চাতে ভাগ্যে বরণ করে নিয়েছিল প্রবাসের কারাবাস। ক’ষ্টের অ’ভিজ্ঞতা সীমাহীন। জে’লে আত্মহ’ত্যার চেষ্টা করে নিজেকে পৃথিবী থেকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে। সকল ক’ষ্টের বোঝা মা’থায় করে আবার নিজের দেশে ফিরে আসে। এখানেও তার ওপর নানা সমালোচনা। নির্বাক নিস্তব্ধ আসমা। খাওয়া দাওয়া বন্ধ। মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ রুপি কিছু হায়েনা ও নরপশুর বীভৎসতা কি’শোরী আসমা’র হৃদয়কে ভেঙে চুরমা’র করেছে। নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েই ওইসব জানোয়ারদের নি’র্যাতনের প্রতিবাদ জানাল আসমা। গত ২০শে নভেম্বর বুধবার রাতে সরাইলের কালিকচ্ছ নন্দিপাড়া ভগ্নীপতি হোসেন মিয়ার বসতঘরে নিজের ওড়না গলায় পেঁচিয়ে আত্মহ’ত্যা করেছে আসমা। পরিবারের অ’ভিযোগ না থাকার পরও লা’শের ময়নাত’দন্ত নিয়ে হয়েছে নানা নাট’কী’য়তা।

নি’হতের পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ৬ মাস আগে যায় সৌদী আরব। যাওয়ার পরই পাসপোর্ট নিয়ে নেয় কফিল। শুরুতে ভালই কাটছিল আসমা’র দিন কাল। তিনমাস বাড়িতে ১৮ হাজার করে টাকা পাঠিয়েছে। পরিবারে এবার সচ্ছলতা ফিরে আসবে এমন স্বপ্নেই বিভোর ছিলেন মা রহিমা বেগম (৫২)। এরপরই বেতন বন্ধ হয়ে যায়। ভাল কোন খবর নেই। চিন্তায় পড়ে যায় পরিবারের লোকজন। মানুষ নামের হায়েনা (কপিল) আসমা’র উপর নি’র্যাতন চালায়। বাঁ’চার কোন পথ নেই আসমা’র। সব হারিয়ে আসমা পাগল প্রায়। অবশেষে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে সে দেশের পু’লিশের কাছে ধ’রা দেয়। নিয়ে যায় হাজতে। সেখানেও অবর্ণনীয় ক’ষ্ট। কয়েকবার আত্মহ’ত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। এক মাসেরও অধিক সময় সৌদীতে হাজতবাসের পর গত ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশে আসে আসমা। সর্বস্ব খুঁইয়ে বাকরুদ্ধ আসমা। চোখে মুখে তার বিষাদের চাপ। সর্বক্ষণই মন ম’রা। আসমাকে গত ১৪ নভেম্বর সিলেট থেকে কালিকচ্ছে নিয়ে আসেন ভগ্নিপতি হোসেন মিয়া। এখানেও তার বড় বোন সহ কারো সাথে কথা বলে না। শুধু এদিক ওদিক চেয়ে থাকে। খাবার খায় না।

গত ২০ নভেম্বর সিলেট চলে যাওয়ার কথা বললে বোন আনোয়ারা রাজি হননি। রাতে ভগ্নিপতি কাজে তাই বোনকে চিপস্‌ আনতে দোকানে পাঠায় আসমা। সুযোগে ঘরের দরজা জানালা লাগিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহ’ত্যা করে আসমা। বোন এসে দেখেন দরজা ভেতরের দিকে লাগানো। অনেক চেষ্টার পর পেছনের দরজা ভেঙ্গে দেখে ফাঁ’সিতে ঝুলে আছে আসমা। রশি কাটলে আসমা’র নিথরদেহ মাটিতে পড়ে যায়। আসমাকে দ্রুত সরাইল হাসপাতা’লে নিয়ে যান হোসেন মিয়া। চিকিৎসক মৃ’ত ঘোষণা করে। পু’লিশ আসমা’র লা’শ উ’দ্ধার করে থা’নায় নিয়ে যায়।

নি’হত আসমা’র মা রহিমা বেগম ও বোন আনোয়ারা বেগম বলেন, আমাদের ধারণা মূলত সৌদী আরবে অ’ত্যাচার নি’র্যাতনে অ’তিষ্ঠ ছিল আসমা’র জীবন। যা সে সহ্য করতে পারছিল না। তাই জে’ল খেটে দেশে এসে ম’রার মত ছিল। অবশেষে আত্মহ’ত্যা করেই প্রতিবাদ জানিয়েছে। আম’রা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আসমা’র লা’শ ময়না ত’দন্ত ছাড়া দাফন করেছি।সরাইল থা’নার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, এটা আত্মহ’ত্যা। প্রবাসে কি’শোরী বড় ধরণের কোন আ’ঘাত পেয়েছে। আবার দেশে আসার পর তার প্রবাস জীবনের উপর লোকজনের নানা ধরণের আ’পত্তিকর আলোচনা। এ জন্য আসমা’র বিয়ের উপরও প্রভাব পড়েছে। সব মিলিয়ে ওই কি’শোরী আত্মহ’ত্যা করেছে।

সূত্রঃসুরমা নিউজ ২৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here