করোনায় ফ্রান্সের Île-de-France এরিয়ার হাসপাতাল গুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই !

0
464
ফ্রান্সের Île-de-France এরিয়ার একটি হাসপাতালের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার দৃশ্য ( ফাইল ছবি)

ফ্রান্সের Île-de-France এরিয়ার হাসপাতাল গুলোতে ২০০০ এর উপরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী এখন ICU তে আছে। কোনো বিছানা খালি নেই। একটি বিছানা খালি হলে তিন জন রোগী প্রবেশ করে। এর সাথে যোগ হয়েছে মেডিকেল সামগ্রীর এবং স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে Île-de-France অঞ্চলে অবস্থিত হাসপাতাল গুলোতে কি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর “সুনামী” এর ভার বহন করতে সক্ষম?

এই অঞ্চলের হাসপাতাল গুলোর ২০০০ রোগীর ক্যাপাসিটি যে সক্ষমতা তা ইতিমধ্যে ক্রস করেছে গতকাল বুধবার। Agence Régionale de la Santé (ARS) এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই অঞ্চলের হাসপাতাল গুলোর ICU তে এখন ২২২৭ জন চিকিৎসাধীন আছে। এখানে ICU তে চিকিৎসার স্বাভাবিক ক্ষমতা হলো ১২০০ জনের। ARS এর মতে “আমাদের অবশ্যই ICU তে বিছানার পরিমান ২৪০০ তে উত্তীর্ণ করতে হবে”। Assistance Publique-Hôpitaux de Paris (AP-HP)পরিচালিত এই অঞ্চলের বিভিন্ন বিভিন্ন হাসপাতাল গুলির ICU তে মঙ্গলবার পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিল ৮৭০ জন রোগী। বুধবার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আরও ১৬৬ জন রোগী। এখানে কিন্তু Île – de -France নয় শুধু প্যারিসের কথা বলা হচ্ছে।

Assisstance Publique-Hôpitaux de Paris (AP-HP) এর পরিচালক Martin Hirsch বলেন প্যারিসের হাসপাতাল গুলোতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করার আর স্থান নাই। সব চেয়ে বাজে অবস্থা গেছে গত সপ্তাহে। গত সপ্তাহে যে রোগী এসেছে তা তাদের ভীষণ বিপদে ফেলে দিয়েছে। এই সব রোগী হলো লক-ডাউন কার্যকর করার আগের রবিবার প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোর নির্দেশনা না মেনে যারা বেড়িয়ে ছিল সিংহভাগ তাদের অংশ।” তবে ৩১ শে মার্চ রোগী ভর্তির একটি খুবই ধীরগতি দেখা যায়। মহামারী রোগের বিষেশজ্ঞগণ আশংকা করছেন যে আগামী কিছুদিন ICU তে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর ভর্তি কিছু টা হলেও বেড়ে যাবে।

Hauts-deSeine এ অবস্থিত Hôpital Raymond-Poincaré de Garche ১২ ঘন্টায় ১০ জন রোগী ভর্তি করতে অস্বীকার করে। প্যারিস ১২ তে অবস্থিত Hôpital Saint-Antoine এ গত ২৭ শে মার্চ ৮ টি বিছানা যোগ করেই সামাল দিতে পারছে না। হাসপাতাল কতৃপক্ষ হার্টের একটি ইউনিটকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ছেড়ে দিচ্ছে। কিন্তু ভেন্টিলেশান যন্ত্রের অনেক অভাব। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করছে যোগাড় করতে। কিন্তু এত কিছুর পরও স্বাস্থ্য কর্মীর অনেক অভাব। এই অবস্থায় কি হবে আগামী দিনগুলিতে।

সবকিছু নির্ভর করছে আপনি কত টুকু লক-ডাউনের নির্দেশ গুলি মেনে চলেন। আমরা ইতিমধ্যে লক্ষ্য করেছি যে ফ্রান্সে করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এখন কত জন মারা গেলো সেটা আমাদের লক্ষ্য হতে পারে না আমাদের দেখতে হবে, কতজন আক্রান্ত হলো এবং কত জন সুস্থ্য হয়ে বাসায় ফিরলো।গত ২৪ ঘন্টায় ফ্রান্সে ৫০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে যা গতকালের তুলনায় ১০ জন বেশি।

আশার কথা হলো গত ২৪ ঘন্টায় ফ্রান্সে আক্রান্ত হয়েছে ৪৮৬১ জন যা গতকালের তুলনায় ২৭১১ জন কম। আরেকটা আসার কথা হলো গত ২৪ ঘন্টায় ৩০০৭ জন সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। এতে দেখা যায় সর্বমোট ১০৯৩৪ জন সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় গেছেন। ২৪৬৩৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যার মধ্যে ৬০১৭ জন আশংকাজনক অবস্থায় আইসিউ তে আছেন। আজ ৪৫২ জনকে ICU তে ভর্তি করা হয়েছে, গতকাল যা ছিল ৪৫৮ জন। ইনশাআল্লাহ এভাবে পরিস্থিতি উন্নত হতে থাকবে যদি আপনারা আগামী ১৫ দিন সরকারের নির্দেশাবলী মেনে ঘরে থাকেন ।

সূত্র: Le Paris Theke
Www.francebanglanewes.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here