করোনায় থেমে নেই সাগরপথে ইউরোপ পাড়ি, ২ দিনে লিবিয়া থেকে ইতালীতে ৩৬২ বাংলাদেশী

0
566
লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাত্রাকালে সাগরে মাঝে নৌকায় অবস্থান করা অভিবাসীগণ । তাদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশী

▪︎অনলাইন ডেস্ক: করোনা ভাইরাস মহামারী সংক্রমণের ভয়ে  যখন সারা বিশ্বের মানুষ  স্তম্ভিত , তখন মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে । তাদের জালে পা ফেলে ইউরোপের উন্নত জীবনের আসায় বিভিন্ন দেশের অভিবাসীগণ মৃত্যুকূপ জেনেও সাগর পথে পাড়ি জমাচ্ছেন ইউরোপে । তাদের মধ্যে রয়েছেন  অসংখ্য বাংলাদেশ অভিবাসী ।

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া পৌঁছানো পর্যন্ত নানা বিপদ কাটিয়ে ইউরোপের স্বপ্নে বিভোর মানুষগুলো এক সময় যে নিশ্চিত মৃত্যুকূপের দিকে স্বেচ্ছায় এগিয়ে যায়, সেই মৃত্যুকূপের নামই লিবিয়ার ভূমধ্যসাগর। এই সাগর দিয়ে কয়েক দশক ধরেই অভিবাসীরা বিপজ্জনকভাবে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

 

সম্প্রতি ভূমধ্যসাগর  পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছেছেন ৫ শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশী। তাদের মধ্যে ৩৬২ জনই বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানা গেছে। সম্প্রতি তিউনিশিয়া থেকে ১১৬ অভিবাসন প্রত্যাশীকে নিয়ে ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপে পৌঁছেছে ৯টি নৌকা। এছাড়া তিউনিশিয়া থেকেও সাতটি ছোট নৌকা ও লিবিয়া থেকে দু’টি বড় নৌকায় ইতালি পৌঁছেছেন আরও ৪৩৪ জন।

লোকাল পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় ইতালিতে অবৈধ অভিবাসী প্রবেশের হার বেড়েছে কয়েকগুণ। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে গ্রীষ্মকালে সমুদ্র শান্ত থাকার সুযোগে চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই অবৈধপথে ইতালি যাচ্ছেন বিভিন্ন দেশের অভিবাসন প্রত্যাশীরা।

 

এদিকে আইওএম থেকে আরও বলা হয়েছে, গত দুইদিনে লিবিয়া থেকে যাওয়া একটি নৌকায় ৯৫ জন এবং অপর নৌকার ২৬৭ জন, মোট ৩৬২ জন অভিবাসন প্রত্যাশী বাংলাদেশের নাগরিক ইতালি পৌঁছেছে ।

সংস্থাটির মুখপাত্র ফ্লাবিও ডি জিয়াকোমো ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, গত বছরের তুলনায় অভিবাসন প্রত্যাশীদের আগমন বাড়ছে, তবে এখনও দুই বছর আগের তুলনায় অনেক কম, আর তিন চার বছর আগের কথা উল্লেখ করার দরকারই পড়ে না।

ইতালিতে এ বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী পৌঁছেছে। গত বছর একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল তিন হাজার। আর ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৭ হাজার।

 

আফ্রিকা ও আরবের বিভিন্ন দেশ থেকে তুরস্ক কিংবা গ্রিসে নৌপথে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর কিংবা আটলান্টিক মহাসাগরে স্পিডবোট কিংবা ট্রলার দিয়ে পাড়ি জমানোর সময় সলিল সমাধি হচ্ছে অনুপ্রবেশকারীদের। আবার আফ্রিকার দেশ মরোতানিয়া রটে সাহারা মরুভূমি হয়ে পর্তুগাল ঢোকার চেষ্টাকালে সাহারা মরুভূমির দুর্গম পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনাহারে অনেকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

এর মধ্যে আবার কেউ কেউ অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টাকালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন। আবার দালালের খপ্পরে পড়ে অনেকে জিম্মি জীবন যাপন করছেন। মুক্তির জন্য দেশ থেকে ভিটেমাটি বিক্রি করে টাকা-পয়সা দিয়েও মিলছে না তাদের মুক্তি।

এত ভয়াবহ  অবস্থা জেনেও থেমে নেই বাংলাদেশী অভিবাসীদের সাগর পথে ইউরোপ যাত্রা । গত
আর এই বিপদজন পথে সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক বাংলাদেশী অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৮মে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে মানবপাচারকারীরা প্রায় অর্ধশত অভিবাসীকে একটি ঘরে বন্দি করে রাখে । আর্থিক লেনদেন নিয়ে ঝামেলার সূত্র ধরে পাচারকারীদের এক সদস্য ২৬ বাংলাদেশী সহ  ৩০ অভিবাসীকে  গুলি করে হত্যা করে । এখনও অনেক বাংলাদেশী এই বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার জন্য লিবিয়াতে অবস্থান করছেন ।

ফ্রান্স বাংলা – ০১/০৯/২০২০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here